মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দলিল আটকে ৩৩ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ সাবরেজিস্টার ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

দলিল আটকে ৩৩ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ সাবরেজিস্টার ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

দলিল আটকে ৩৩ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ সাবরেজিস্টার ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: শাহিন মিয়া
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দলিল আটকে দেয়ার কথা বলে নগদ ৩৩ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণের আংটি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব রেজিস্টার মো. নাজমুল হুদা ও তার পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে। দলিলটি পার হওয়ার পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যে জানা যায়, মোছাঃ বিউটি বেগমের বাবার বাড়ি বরিশাল। ১৯৮৮ সালে বিয়ে করেন তিনি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর দিগর গ্রামের শ্রী বকুল ঘোষকে। বিয়ে আগেই অবশ্য স্বামী নওমুসলিম হলে নাম রাখা হয় মো. বাবলু মিয়া। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ২ একর জমি বিউটি বেগমকে দলিল করে দেন তার শ্বশুর মদন মোহন ঘোষ। স্বামী সৌদিতে থাকতেন। সেখানেই তিনি ২০১৫ সালে মারা যান। পরবর্তীতে বিউটি বেগমের শ্বশুর ও তার বাড়ির লোকজন অন্যত্র চলে গেলে তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে আশ্রয় নেন। ২ ছেলে ও ১ মেয়ে ছাড়া নিজস্ব বলতে কেউ নেই এখানে বিউটি বেগমের।

সাবরেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা গেছে, দলিল হওয়া জমির পরিমাণ ১ একর সাড়ে ১৪ শতাংশ। গত মাসের ৯ তারিখে দলিলটি পার হয়েছে।  দলিল নং ১৪০৪। দাতা মৃত অক্ষয় কুমার ঘোষের ছেলে মদন মোহন ঘোষ। গ্রহিতা মৃত মো. কছিম উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে মো. হাবিবুর রহমান। গ্রহিতার বাড়ী সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। 

ভুক্তভোগী মোছাঃ বিউটি বেগম বলেন, এখানে আমার আপনজন বলতে তেমন কেউ নেই। সেই সুবাদে হাবিবুর রহমান আমার জমি দলিল করি নেয়ার চেষ্টা চালান। বিষয়টি জানতে পেয়ে আমি সাবরেজিস্টার অফিসে দলিল ঠেকানোর জন্য যাই। তখন এ অফিসের পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়া বলেন টাকা দিলে দলিল ঠেকানো যাবে। এতে আমি রাজি হই এবং টাকা দেয়া শুরু করি। ২০ হাজার, ১০ হাজার, ৫ হাজার করে এ পর্যন্ত মো. আবদুস সালাম মিয়াকে আমি ৩১ লক্ষ টাকা দিয়েছি। আমার হাতে একটা স্বর্ণের আংটি ছিলো সেটাও সালামকে দিয়েছি। কয়েকদিন আগে এ অফিসের সাবরেজিস্টার অফিসারকেও ২ লক্ষ টাকা দিয়েছি। এখন শুনতে পেলাম জমির দলিল নাকি পার হয়ে গেছে। বিষয়টি জানার জন্য সাবরেজিস্টার অফিসারকে জিজ্ঞেস করি। তখন উনি বলেন জমির দলিল পার হইছে তাতে কি হইছে? তখন আমি বলি স্যার আপনি যে আমার কাছে ২ লক্ষ টাকা খাইলেন তাহলে ওর কাছে কতো লক্ষ টাকা খাইলেন?  তখন উনি (সাবরেজিস্টার) বলেন খাইছি তার খাইছি তাতে কি হইছে?

এ বিষয়ে কথা হয় জমি গ্রহিতা আলহাজ্ব মো. হাবিবুর রহমানের সাথে। চরম ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, গত ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ জমি দলিলের প্রসেস করি। পরে গত মাসের ৯ তারিখে দলিলটি সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ এ সময় ধরে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন বহুবার চালিয়েছেন দলিল অফিস ও বাহিরের বিভিন্ন লোকজন। টাকাও নিয়েছেন তারা অনেক। কাউকে বলিনি। তবে সময় এসেছে সবার মুখ উন্মোচন করে দেয়ার।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বিউটি বেগমের জমি নেইনি। আর যদি নিয়ে থাকি প্রমান দিতে পারলে জমি আমি ফেরত দিবো তাকে।

 

দলিল লেখক মো. সবুজ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কথা হয় সাব রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, বিউটি বেগমকে আমি চিনি। তবে তার কাছ থেকে আমি কোনো আংটি বা টাকা নেইনি।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা সাব রেজিস্টার মো. নাজমুল হুদার সাথে। তিনি বলেন, কথিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে তিনি কোনো টাকা দেননি। আর আমার অফিসের সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে যদি কারো কোনো অভিযোগ থাকে সে লিখিতভাবে অভিযোগ দিবে। আমরা তদন্ত করে দেখাব। তদন্তে প্রমাণিত হলে আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবো। 
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলিল কখনো আটকানো যায় না। যদি কাগজপত্র ঠিক থাকে তাহলে বিধি মোতাবেক দলিল পার হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।